ইউরোপে আবারও ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে এক ঘণ্টা সময় সমন্বয়

ইউরোপের অধিকাংশ দেশে আবারও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৩টায় ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে ২টা করা হবে। এর ফলে মানুষ এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি দিনের আলো দ্রুত ফুটবে এবং সন্ধ্যাও নেমে আসবে সময়ের আগে। ১৯৭৬ সালের তেলসংকটের পর ফ্রান্সে প্রথম গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করা হয়েছিল এবং ১৯৮০ সাল থেকে পশ্চিম জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এই প্রথা গ্রহণ করে। তবে বর্তমান সময়ে এই ব্যবস্থার উপযোগিতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন: ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইউক্রেনীয় সেনাকে উদ্ধার
বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের এই প্রথা নিয়ে ইউরোপজুড়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক জনমত জরিপে প্রায় ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এই ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মত দেন। এই জনমতের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রথাটি বাতিলের প্রস্তাব বিপুল ভোটে (৪১০-১৯২) পাস হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সাল থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ীভাবে কোন সময় ব্যবস্থাটি (গ্রীষ্মকালীন না শীতকালীন) অনুসরণ করা হবে তা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় পুরো উদ্যোগটি আটকে যায়। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। মূল বিরোধের জায়গা হলো, স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় রাখা হবে, নাকি শীতকালীন সময় চালু থাকবে।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড-ভারত ক্রিকেট ও ইউরোপিয়ান ফুটবলের জমজমাট সূচি
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটের কারণে এই বিষয়টি ইউরোপের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকার পেছনে চলে গেছে। বিভিন্ন দেশে সময়ের ভিন্নতা থাকলে আন্তঃদেশীয় পরিবহন, বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হবে, যদিও মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অনেক দেশে মৌসুমি সময় পরিবর্তনের কোনো নিয়ম নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১ নভেম্বর দিবালোক সাশ্রয়ী সময় শেষ হবে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী সময়ের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপবাসীকে এখনকার মতো আগের নিয়মেই বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের ভোগান্তি পোহাতে হবে। স্থায়ী সময়ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সমাধান না আসায় এই প্রথা কবে নাগাদ পুরোপুরি বন্ধ হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরনো নিয়মেই ইউরোপের অধিকাংশ দেশ সময় সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে।



















