যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে সাবমেরিন কেবলে আঘাত হানবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবল নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। এমনকি আঘাত হানার পর ক্যাবল মেরামত প্রক্রিয়া আটকে দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘ সময় স্তব্ধ করে রাখার প্রস্তুতিও রয়েছে দেশটির। তবে তাদের একজন বলেছেন, হামলার পর কেবল মেরামত ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগসেবা দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকে।
ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন সংঘর্ষের পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অভিযানের সুনির্দিষ্ট স্থান বা পদ্ধতি উন্মোচন না করলেও সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের ওপর কোনো আঘাত আসলে এরপর আর কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমানা মেনে চলা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের উচিত হবে না ‘আগুন নিয়ে খেলা’ করা। সমুদ্রতলে কৌশলগত আঘাত হানার সব সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোপন সামরিক ঘাঁটিও তাদের মূল নিশানায় পরিণত হতে পারে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি ইঙ্গিত দেন, নিজ দেশের অবকাঠামো আক্রান্ত হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলা চালানো হবে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রের নিচ দিয়ে যাওয়া এসব ক্যাবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের ওপর হামলা বিশ্বজুড়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মলডিন উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ১ শতাংশেরও কম চলাচল করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা বিশ্বজুড়ে বড় সংকট তৈরির সম্ভাবনা সীমিত করে দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী সীমিত প্রভাব থাকলেও একসঙ্গে কয়েকটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বিঘ্ন ঘটা এবং অনলাইন সেবা বা ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সাময়িক এই সংকটের রূপ কতটা মারাত্মক হবে, তা নির্ভর করবে বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ দ্রুত চালুর সক্ষমতার ওপর।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, টার্গেটে নারী যাত্রীরা
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে



















