প্রধানমন্ত্রী -: বিরোধীদলের কারণে স্বৈরাচারের আসার পথ উন্মুক্ত হলে

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সোমবার এই অনুষ্ঠানে তিনি নতুনভাবে গড়ে ওঠা ওসমানী উদ্যানের দ্বার উন্মোচন করেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক বিরোধিতার ধরন যদি কেবল অন্ধ বিরোধিতার পর্যায়ে চলে যায়, তবে তা দেশের জন্য কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।
আরও পড়ুন: জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট এখনো বাকি: কাতার
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে বিরোধী দলের ভূমিকা। গণতান্ত্রিক চর্চায় বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে জনগণের স্বার্থ ও দেশের কল্যাণে গঠনমূলক আলোচনা করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান বিরোধী দল শুধু বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড যদি স্বৈরাচারী কোনো শক্তির উত্থানের পথ সহজ করে দেয়, তবে তা জুলাইয়ের শহীদ ও একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করার শামিল হবে।
আরও পড়ুন: সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান
দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে এই ‘পুরনো কালচার’ বড় বাধা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব থাকে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের। তিনি বিরোধী দলকে মনে করিয়ে দেন যে, বিরোধিতা অবশ্যই থাকা উচিত কিন্তু সেটি হতে হবে গঠনমূলক ও জনবান্ধব। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, জনগণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা না করে যদি শুধুমাত্র অহেতুক বিরোধিতায় ব্যস্ত থাকে, তবে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রা সুনিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতির চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।


















