বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

রপ্তানি পণ্যের নতুন সম্ভাবনা: তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রপ্তানি পণ্যের নতুন সম্ভাবনা: তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প

প্রচলিত তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম তৈরির শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বাজারে ক্যাম্পিং ও অ্যাডভেঞ্চার সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তাঁবু রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এই খাতে ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন এবং বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণ হলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। ইপিবির তথ্যানুযায়ী এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে চান তারা। তাঁবুর অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু ও ফ্যাশন শু উৎপাদন করে বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আরো উন্নত পণ্য, টেকসই উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পিং সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা গেলে স্থানীয় উৎপাদকরা উচ্চমূল্যের অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আরো ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা যখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে, তখন প্রচলিত পোশাকের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল পণ্যের এই ধরনের বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য পরিসংখ্যান সংস্থা কমট্রেড এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে ক্যাম্পিং তাঁবুর বাজার বর্তমানে প্রায় ৬.১৮ বিলিয়ন ডলারের। ইপিবির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী রপ্তানি করে প্রায় ২৩৭.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২০.৮৩ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি করা তাঁবুর প্রায় ৯৩ শতাংশই সিনথেটিক ফাইবার থেকে তৈরি, যার আর্থিক মূল্য ২২ কোটি ৭ লাখ ডলার। বাকি অংশ ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, তারপলিন ও ছাউনি এবং টেক্সটাইল ভিত্তিক তাঁবু থেকে আসে। পার্ক বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, কারখানায় উৎপাদিত ব্যাগের প্রায় ৮০ শতাংশই নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি করা হয়।

এই খাতের রপ্তানি আয়ের ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪২১ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ২৭৬ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২২২ মিলিয়ন ডলার। করোনা মহামারির প্রভাবে বিশ্ববাজারে চাহিদা কিছুটা সংকুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে খাতটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৯টি দেশে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে গত অর্থবছরে ৮৭.৫২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩৬.৯ শতাংশ। এরপর উল্লেখযোগ্য বাজারের তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স (২৮.৭৩ মিলিয়ন ডলার), কানাডা (১৯.৯৯ মিলিয়ন ডলার), স্পেন (১৯.১৭ মিলিয়ন ডলার) এবং যুক্তরাজ্য (১৮.৪৪ মিলিয়ন ডলার)। এই পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে দেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) এই শিল্পটি মূলত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে ১৪টি কারখানা সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চালাচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। গত ২০ মে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সানশাইন আউটডোর বিডি কোং লিমিটেড’ তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের জন্য জমি ইজারা চুক্তি করেছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পিএইচ ক্রিয়েটিভ বিডি লিমিটেড’ একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাঁবুর ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ার ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের চুক্তি সম্পন্ন করে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশকে এসব পণ্যের অন্যতম উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন। আউটডোর বিনোদন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তায় তাঁবুর ব্যবহার বাড়ায় এ পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও বড় হচ্ছে। যেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ পিস তাঁবু, ব্যাগ-ব্যাকপ্যাক, ক্যাম্পিং চেয়ার-ফার্নিচার, লাগেজ, স্লিপিং ব্যাগ ও গেজেবো উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তাঁবু রপ্তানি করেছে এইচকেডি আউটডোর ইনোভেশনস লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইপিজেডে অফমা ক্যাম্প লিমিটেড ক্যাম্পিংয়ে ব্যবহৃত হ্যামক বা ঝুলন্ত বিছানা, স্লিপিং ব্যাগ, বালিশ, ঘোড়ার স্যাডল প্যাডসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে। ২০১০ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে যাত্রা শুরু করা ‘এ-টাইপ’ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

বিনিয়োগের তালিকায় আরও রয়েছে ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড, যারা প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। হংকং-চীনভিত্তিক গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড গ্রিনহাউস ও হাইড্রোপনিকস টেন্ট উৎপাদনে প্রায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়া তাইওয়ানের ন্যাটওয়ে আউটডোর ৩ কোটি ৩ লাখ ডলার এবং কুইন্ডা আউটডোর ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের কারখানা স্থাপনে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি আরো সাড়ে ৩ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট এখনো বাকি: কাতার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড বছরে প্রায় ১২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হং উ লি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ১১টি উৎপাদন লাইনের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৩ লাখ তাঁবু তৈরি করছে এবং বিশ্বের ৩৩টি দেশে তা সরবরাহ করছে।

অফমা ক্যাম্প লিমিটেড নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যাদের অন্যতম বড় ক্রেতা ফরাসি খুচরা বিক্রেতা ডিক্যাথেলন।

তবে সম্ভাবনার বিপরীতে এ শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্পভ্যালির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কামার উল হক জানান, উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাঁচামাল, বিশেষ করে পলিয়েস্টার ও নাইলন ফেব্রিক, পিইউ ও সিলিকন কোটিং, পলিয়েস্টার মেশ, দড়ি ও ফ্রেমের মতো উপকরণগুলো চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তিনি আরও জানান, যদি এসব কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা যায়, তবে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসবে এবং দ্রুত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উদ্যোক্তা দেশে কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তাঁবু তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত ফেব্রিক, কাঠামোগত পোল, জিপার, ফিটিংসসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক মনে করেন, ইপিজেডগুলো শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না থেকে এই ধরনের বৈচিত্র্যময় শিল্প গড়ে তোলায় দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কাঁচামাল উৎপাদনে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ঔপনিবেশিক শাসন-শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা দেশগুলোর সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির পথ সুগম করতে মাতৃভাষায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ইতিহাস ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, বিদ্যাসাগর একাধিক ভাষায় সুপণ্ডিত হয়েও মাতৃভাষা বাংলার চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি চিরায়ত সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করে মাতৃভাষার ভিত্তি মজবুত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গো-এর মতে, মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষায় পারদর্শী হওয়া দাসত্বের নামান্তর। তাঁর মতে, “আপনি যদি নিজের মাতৃভাষা ছাড়া জগতের অন্য সকল ভাষাও রপ্ত করে থাকেন, তাহলে আপনি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি রয়েছেন। কিন্তু মাতৃভাষা রপ্ত থাকার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার শক্তি যুক্ত করতে পারলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটে।” এই সত্যটি উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর জন্য গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক (তথ্যসূত্র: Ngugi wa thiong’o, ‘Makers Dream’, Dcolonizing Language and Other Revolutuinary Ideas, পৃষ্ঠা ৭৩)। ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ৩৫। অন্যদিকে, মাতৃভাষা যদি আপনার রপ্ত থাকে, আর তার সঙ্গে যদি জগতের অন্যান্য ভাষার শক্তি যুক্ত করেন, তাহলে আপনার ক্ষমতায়ন ঘটেছে।”২৯১। তথাপি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপন ‘জাতিভাষা’ অর্থাৎ মাতৃভাষা বাংলা চর্চার বিশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বরাবরই সচেতন ছিলেন। কিন্তু এখানে এটাও উপলব্ধি করা জরুরি যে, ঔপনিবেশিক ভাষার বদলে নিজেদের মাতৃভাষায় শিক্ষাপ্রদানের ক্ষেত্রে, পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ আপন আপন দেশে নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় ইতিমধ্যেই যে প্রভূত অগ্রগতি সাধন করেছে, উপনিবেশোত্তর।

আরও পড়ুন: এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

তৃতীয়ত, উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্রায়ণের জন্য জনশিক্ষার প্রসার একান্ত জরুরি। বৈশ্বিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাক্তন উপনিবেশক শক্তিগুলোসহ উন্নত দেশগুলো মাতৃভাষায় জনশিক্ষা নিশ্চিত করেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন করেছে। তাই উন্নয়নকামী দেশগুলোকে এই মডেল অনুসরণের মাধ্যমেই বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে হবে। তবে মাতৃভাষায় শিক্ষার অর্থ এই নয় যে, বিশ্বজ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিজেদের ভাষায় যে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করছে, তা আমাদের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা শেখাও একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

নানা বিদেশি ভাষায় থাকা উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞান দেশীয় ভাষায় নিয়ে আসার প্রধান মাধ্যম হলো অনুবাদ। উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের উচিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক বৃহৎ অনুবাদ প্রকল্প গ্রহণ করা। প্রথিতযশা অধ্যাপকদের নেতৃত্বে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ বিউপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং গণতান্ত্রিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করবে। এটি কেবল একটি ভাষাগত পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যথাযথ অনুবাদ ও মাতৃভাষার চর্চাই আধুনিক জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে। এই প্রশ্নের সর্বজনীন উত্তর হলো, অনুবাদ — প্রচুর অনুবাদ।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

দেশের অর্থনীতিতে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হলেও, নতুন মূলধন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটছে না। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে আগে থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। বিপরীতে, নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি, বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থাৎ, আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগ বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে।

বিদেশি বিনিয়োগের খাত ও পরিসংখ্যান

  • নিট এফডিআই প্রবাহ: ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
  • মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ: ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (মোট এফডিআইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ)।
  • নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ: ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ হ্রাস)।
  • আন্তঃকোম্পানি ঋণ প্রবাহ: ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে (৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ হ্রাস)।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রধানত তিনভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসে—পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নতুন ইকুইটি মূলধন এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়েই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশে নতুন মূলধন প্রবাহের গতি কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি জানান, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের এই প্রবণতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। এতে ব্যবসার সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটি প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই এসেছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যদিও আগের প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

তবে ইপিজেডের বাইরের খাতে বিনিয়োগ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুত করা এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা রয়েছে।

২০২৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা ঘিরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি ইনভেস্ট বাংলাদেশ তাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে সত্যিকারের ব্যবসায়িক সাফল্য ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই এখন মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত অর্জন ও বাকি কাজের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, বৈচিত্র্যের মাঝে বিদ্যমান সম্প্রীতিই আমাদের বড় শক্তি। এই সম্প্রীতি অটুট রাখার বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলীর সাগরিকা মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

সাঈদ আল নোমান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে আস্থা স্থাপন করেছিলেন, সেই আস্থার প্রতি সম্মান জানাতে এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিজে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন। এ সময় তিনি অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন এমপি ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের আমন্ত্রণে তিনি জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গিয়েছিলেন। এবার তার সন্তান হিসেবে একই মণ্ডপে চট্টগ্রামবাসীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী আসছেন।

আরও পড়ুন: নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দেবে কাতার

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মানবতাই আমাদের পরিচয়। বিএনপি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নাগরিকদের তিন বেলা খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখা তার দায়িত্বের অংশ। বিএনপি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুধু পাহারা দেওয়া নয়, বরং পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

সমাবেশ শেষে সাঈদ আল নোমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি বের করেন, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা স্কয়ারে শেষ হয়। র‍্যালি চলাকালে তিনি নিজেই ঢাক বাজিয়ে উৎসবে আনন্দ ছড়িয়ে দেন। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, শফিকুর রহমান স্বপন, এসকে খোদা তোতন, আবুল হাশেম, মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি, রাজীব ধর তমাল এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জসিম উদ্দিন জিয়া।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com