ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো যাবে না: রাষ্ট্রপতি

সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী দুঃশাসন যেন আর কখনোই ফিরে না আসে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যেন কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহ প্রদত্ত এই নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতে যান।
আরও পড়ুন: আজকের খেলার সূচি: পিএসজি-বার্সেলোনা লড়াই ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ
বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এতে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতিব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
আরও পড়ুন: ন্যাটোকে ‘পরীক্ষা’ করতেই ইরানের বিরুদ্ধে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, তিনি এখন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অবস্থানে আছেন, তবে ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়াহ বিরোধী কর্মকাণ্ডের ওপর তিনি সবসময় নজর রাখবেন। এসময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামের প্রতি মমত্ববোধ থেকেই জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন ও মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিজেদের আরবি ভাষায় দক্ষতার মাধ্যমে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসাগুলো সফর ও হেফাজতের আমিরের সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অনুদান সহায়তা আনার ব্যাপারে তাদের আরবি ভাষা ও যোগাযোগের পারদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।


















