মায়ের হাত ধরে স্নাতকোত্তর জয় করলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিয়া

শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা। ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা রাজিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন জীবনপথে। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন মা নাজনীন বেগম। মায়ের নিরলস সহায়তা আর নিজের জেদে তিনি সফলতার সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বয়স বেড়েছে, শরীরেও আগের মতো শক্তি নেই। অথচ শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে নিয়ে প্রতিদিনই চলে তাঁর এই সংগ্রাম। রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়ার জন্ম ১৯৯৯ সালের ২৫ নভেম্বর।
আরও পড়ুন: বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজিয়ার পরিবারে বাবা হাফিজুর রহমান একটি নির্মাণ সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করেন। হাফিজুর রহমান একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ পর্যটক নিহত
তাদের পরিবারে দুই সন্তানের মধ্যে রাজিয়া বড়। আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি অন্যের সহায়তায় দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসার অভাবে সেই সক্ষমতা হারান। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর অসুস্থতার কারণে কিছুদিন বিরতি নিতে হলেও নানার অনুপ্রেরণায় পুনরায় পড়াশোনায় ফেরেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলেও সিঁড়ি ভাঙার জটিলতায় তাকে বিভাগ পরিবর্তন করে বাংলা বিভাগে পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঁড়ি পাড়ি দেওয়া সহজ হলেও বাড়ির সিঁড়ি ছিল নিত্যদিনের আতঙ্ক। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যেত। চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় একবার মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পান, ফলে ওইদিনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে ২০২৫ সালে তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে রাজিয়া চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে কোচিং সেন্টারে গিয়ে ক্লাস করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে রাজিয়ার মায়ের বয়স বাড়ায় সিঁড়ি দিয়ে মেয়েকে নিয়ে ওঠা-নামা করা দিন দিন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির নিচতলার সাথে দোতলার কক্ষ বিনিময়ের প্রস্তাব দিলেও ছোট চাচা আমিনুল ইসলামের ব্যবসায়িক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন মেয়ের স্বপ্ন, চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে মায়ের দীর্ঘদিনের এই কষ্টের দিনগুলোর অবসান ঘটানো। তিনতলা বাড়ির দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে মেয়েকে নিয়ে ওঠানামা করতে করতে ক্লান্ত মা নাজনীন বেগম। এখন মেয়ের চাওয়া, চাকরি করে বাকি জীবন মাকে যদি একটু স্বস্তিতে রাখতে পারেন। প্রায় সারা দিন তাঁকে সেখানে থাকতে হয়।




















