রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নদীপথে বাড়ছে অপরাধ, চ্যালেঞ্জে নৌ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৩ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নদীপথে বাড়ছে অপরাধ, চ্যালেঞ্জে নৌ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

দেশের বিস্তৃত নৌপথ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে। নদীপথে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা, আর চাঁদাবাজি দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌশ্রমিকদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। পণ্যবাহী নৌযান থেকে লুটপাটের পাশাপাশি অপহরণ, ছিনতাই, মাদক পাচার ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সন্ধ্যা নামলেই নদীপথে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি। ঘটনাস্থল থেকে রানা ও সাজ্জাদ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের নদীপথকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে হত্যা, অপমৃত্যু, ডাকাতি, ছিনতাই, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের ২ হাজার ৮৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৩ হাজার ৩৯৯টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ৩১৪টি। এর বাইরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৫০৫টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত প্রায় তিন বছরে মোট ৫ হাজার ৯৮৯টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আগের দুই বছরের উল্লিখিত সব শ্রেণির মামলা এবং চলতি বছরের ৯ মাসের এই ৫ শ্রেণির মামলা মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৮৯। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের কাছে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় জলদস্যুদের গুলিতে মো. হোসেন (৩০) নামের এক জেলে নিহত হন। গুলিতে আহত হন আব্বাস (৩২), কাঞ্চন (৩৪) ও সোহেল (২৯) নামের আরও তিন জেলে। এতে জেলে, নৌযানের চালক ও যাত্রীরা সন্ধ্যার পর আতঙ্কে থাকেন। স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন, পচন ধরে মরদেহে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তিনি বলেন, নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করলেও কেউ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করেন না। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকাঘেঁষা পদ্মা নদীতে এমন অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ সদস্য।

নদীপথে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো

আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

  1. গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় মো. হোসেন নামের এক জেলে নিহত হন।
  2. একই ঘটনায় গুলিতে আহত হন আব্বাস, কাঞ্চন ও সোহেল নামের তিন জেলে।
  3. তাঁদের সবার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বাঘার হাওলা গ্রামে।

একদল জলদস্যু ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করলে জেলেরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে তাঁরা গুলির মুখে পড়েন। এছাড়া পণ্যবাহী নৌযানেও দস্যুতা চলছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর নরসিংদীর মেঘনায় একটি বাল্কহেড থেকে ৩১৭ মেট্রিক টন সার লুট করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচরে এমভি আল-বাখেরা জাহাজের সাত কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মল্লিকের মতে, দুর্গম চরাঞ্চলে রাতে ডাকাতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সাধারণত সন্ধ্যার পর চাঁদপুরের হাইমচর, শরীয়তপুরের লক্ষ্মীচর ও কাঁচিকাটা, মুন্সিগঞ্জের পদ্মা-মেঘনার মোহনা ও সংলগ্ন চরাঞ্চল, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা এবং বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনার চরাঞ্চলে এসব হামলা হয়। শাহ আলম মল্লিক বলেন, এখন পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় কোস্টগার্ড, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের দিনরাত অভিযান চলায় তেমন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে না। তাঁর মতে, জেলার সীমানাসংলগ্ন নদীপথ ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে টহল বাড়ালে এসব অপরাধ কমবে। গত বছরের ১০ অক্টোবর নরসিংদীসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি বাল্কহেড থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বস্তা বা ৩১৭ মেট্রিক টন সার ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না দিলে হামলা, আক্রান্ত পুলিশও। বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা বলেন, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর সংলগ্ন নদীতে পণ্য বোঝাইয়ের সময় প্রতিটি নৌযান থেকে ২ হাজার টাকা, ভোলার ইলিশায় ৫০০ টাকা এবং সাভারের রুস্তমপুর ও আমিনবাজারে আড়াই হাজার টাকা করে টোলের নামে চাঁদা নেওয়া হয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জে মেঘনা নদীতে টেঁটা, বল্লম, রামদাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে নৌযান থামিয়ে চাঁদা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ দল।

চাঁদাবাজির শিকার নৌশ্রমিকরাও।

বাল্কহেড মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ, ভোলা, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় পণ্যবাহী নৌযান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: স্প্যানিশ ‘নোবেল’ পেলেন লিওনেল মেসি

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত বছরের ৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের মেঘনায় শ্রমিকদের পিটিয়ে জখম করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে তাদের ওপরও টেঁটা ও বল্লম নিয়ে হামলা চালায় চাঁদাবাজরা।

এতে নৌ পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।

এছাড়া কুষ্টিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা এবং পিরোজপুরে টহল শেষে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ পাঁচজন। এতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাকসুদ এবং কনস্টেবল সোহাগ ও সাইদুর জখম হন।

নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির ভুক্তভোগীরা মামলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখান, যা অপরাধ দমনে বড় বাধা। বর্তমানে সারা দেশে নৌ পুলিশের ১২৪টি ফাঁড়ি অপরাধ দমনে কাজ করছে। নদীপথে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্তে জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। নৌ পুলিশের অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই বছরে চাঁদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে অপরাধমূলক মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, রাজশাহী ও টাঙ্গাইলেও অপরাধের হার ঊর্ধ্বমুখী।

অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, নথিবদ্ধ পরিসংখ্যানের বাইরেও অনেক অপরাধের ঘটনা ঘটে যা রিপোর্ট হয় না। তাঁর মতে, কেবল টহল দিয়েই নদীপথের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; অপরাধীদের নজরদারি ও তত্ত্বাবধান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশাল জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌ পুলিশের জন্য নিয়মিত একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মতে, স্থলপথের তুলনায় দীর্ঘ নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা এই পথ বেছে নিচ্ছে। মৎস্যজীবীদের জানমালের নিরাপত্তায় তখনো কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার রাখা দরকার।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ এম
ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই এলাকায় পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ তুলে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে মারধরের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য এবং অন্যজন প্রতিবেশী। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জ ভূমি অফিসের কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটানো হয়। অভিযুক্তরা হলেন আনোয়ারের স্ত্রী আন্না খাতুন, তাদের ছেলে শুভ, বোন ওনি ও কনি এবং একজন প্রতিবেশী। স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে অভিযুক্তরা দলবেঁধে পাগলাকানাইয়ে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। বর্তমানে অভিযুক্ত ৫ জনই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ এম
প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত যেকোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সেই দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত যাবতীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই সফরের ক্ষেত্রে ঘটছে তার উল্টোটা। জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। ওয়াকিবহাল মহলের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের কাছে স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তি থাকায় সফরের ঠিক আগমুহূর্তে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সফরের প্রস্তুতি ও সমন্বয় প্রক্রিয়া থেকেও তাকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছিল, যা নিয়ে জাপানের অস্বস্তি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ওই অনুচ্ছেদে যে বক্তব্য ছিল, টোকিও তা তাদের জন্য সংবেদনশীল মনে করে। জাপানি কর্তৃপক্ষ দাউদ আলীকে চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করে এবং যৌথ বিবৃতিতে ওই অনুচ্ছেদটি প্রণয়নে তার ভূমিকা ছিল বলে তারা ধারণা করছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদী গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে বর্তমান ও সাবেক অনেক কূটনীতিক অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আগেভাগে খতিয়ে না দেখে সফরের প্রাক্কালে এমন পদক্ষেপ কেন নেয়া হলো, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ই অক্টোবর এক চিঠির মাধ্যমে তাকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশনা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে সমন্বয় ও প্রস্তুতির দায়িত্ব পালন করছেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ওই সফর থেকে ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হতে পারে। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

দাউদ আলীর ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তাকে একইভাবে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সে সময় তারেক রহমানকে লন্ডনে সহায়তার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে তাকে দেশে ফিরতে হলো।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা দাউদ আলী আগামী ৭ই ডিসেম্বর অবসরে (পিআরএল) যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, টোকিও, প্রিটোরিয়া ও লন্ডনের বিভিন্ন মিশন এবং চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। আগামী ৭ই ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ এম
ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের উত্তাপে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক দিনে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক প্রবাসী উদ্যোক্তা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি সরকার। এতে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিক্ষোভের অস্থিরতায় প্যারিসের প্রবাসী ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে হাসান নামের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান ও মোবাইল ফোনের সরঞ্জামাদি লুট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীর দাবি অনুযায়ী, তাঁর দোকানের প্রায় ৯০ হাজার ইউরো সমমূল্যের মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া মানি ট্রান্সফার বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রবাসীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, অতীতে যেকোনো আন্দোলন চলাকালে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের আউটলেটগুলো বেশি হামলার শিকার হওয়ার নজির রয়েছে। রিয়া ও মানিগ্রামের মতো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট আউটলেট পরিচালনাকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, নতুন করে রাস্তায় সহিংসতা শুরু হলে তাঁদের দোকানগুলো হামলার শিকার হতে পারে। ফ্রান্সের সহিংস বিক্ষোভ নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ। প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এসব আইনি ও আর্থিক সহায়তা সহজে পেতে পারেন, সে জন্য ফ্রান্সের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সংগঠন ও কমিউনিটি নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

প্যারিস নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের সহিংসতায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্যারিসেই ৪৫১টি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন মার্টের স্বত্বাধিকারী এলান খান চৌধুরী জানান, বর্তমান অস্থিরতায় ব্যবসার পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। খাবার সরবরাহকারী (ফুড ডেলিভারি) মনির হোসেন জানান, পরিস্থিতির কারণে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকছেন তাঁরা। নিয়মিত বৈধ কাগজপত্র না থাকা প্রবাসীদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে, কারণ রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি ও তল্লাশি চলছে।

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ফরাসি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছে।

ফ্রেঞ্চ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যাসোসিয়েশনস এবং কনফেডারেশন অব ফ্রেঞ্চ কমার্স ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ ও সংহতি প্রকাশের কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

পাশাপাশি প্যারিস ও ইল-দ্য-ফ্রঁস চেম্বার অব কমার্স ব্যবসায়ীদের বিমা সংক্রান্ত আবেদন ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। সরকারের বিশেষ প্যাকেজের আওতায় শর্তসাপেক্ষে আংশিক বেকারত্বকালীন ভাতা, কর পরিশোধের সময় বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণসহ বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোকানপাটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফরাসি সরকারের ঘোষিত সহায়তার আওতায় রয়েছে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মীদের আংশিক বেকারত্বকালীন ভাতার ব্যয় রাষ্ট্রের বহন করা, কর ও সামাজিক অবদানের অর্থ পরিশোধের সময় বাড়ানো, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণসুবিধা এবং যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বিশেষ তহবিল।

পরিস্থিতির অবনতির পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও ইয়েলো ভেস্ট কর্মীরা। এর মধ্যেই শুক্রবার প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রাপ ও লা ভেরিয়েরে এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। যদিও সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে, তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এর সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার প্যারিসের লুভর জাদুঘর, মিউজিয়াম দ’র্সে, পিকাসো জাদুঘর ও গ্রঁ পালে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ বাস্তিল, রিপাবলিক, নাসিওঁ ও লে আল এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। নাগরিকদের ঘর থেকে বের হওয়ার আগে গণপরিবহনের হালনাগাদ তথ্য ও পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে, লুট হওয়া পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা একটি গুরুতর অপরাধ। ফরাসি আইন অনুযায়ী, চোরাই পণ্য রাখা বা কেনাবেচার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ঠিক কতজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় এখন ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীরা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে সাবমেরিন কেবলে আঘাত হানবে ইরান

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com