মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

মাত্র সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে প্রবাসের সাহিত্যাঙ্গনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে ক্ষুদে কবি পরমা টি পার্ল। তার এই অসামান্য সাহিত্যিক পদচারণা প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা পরমা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার অ্যাবিগেইল অ্যাডামস স্কুলের প্রথম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পাওয়া ৪৯টি কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এক শৈশবের কল্পনা, আবেগ, অনুভূতি, ভয় ও স্বপ্নের মিশ্র রূপ। ঢাকার উচ্ছ্বাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটির প্রতিটি কপির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ডলার। শৈশবের কল্পনা, অনুভূতি, ভয়, স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিচিত্র রং নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ Smell of My Words ঘিরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বসেছিল কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। এসব কবিতায় ফুটে উঠেছে শিশুমনের কৌতূহল, আবেগ, ভালোবাসা, ভয়, আশা, স্বপ্ন এবং চারপাশের পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখার প্রবণতা। সহজ ভাষায় লেখা এ কবিতায় ভয়কে মোকাবিলা করা, প্রস্তুত থাকা এবং স্বপ্ন পূরণের আনন্দকে তুলে ধরেছে ক্ষুদে কবি। জীবনের পথে ভয় ও অনিশ্চয়তা আসতে পারে, কিন্তু সেগুলো যেন স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—কবিতাটির অন্তর্নিহিত বার্তায় এমনই ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। শিশুসুলভ সরলতা ও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে পরমা পাঠককে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। Smell of My Words বইটির প্রচ্ছদেও রয়েছে শৈশবের কল্পনার রঙিন ছোঁয়া। দুই পাশে ঝুঁটি বাঁধা একটি ছোট্ট মেয়েকে ডেস্কে বসে বই পড়তে দেখা যায়। চারপাশে প্যাস্টেল রঙের মেঘ ও বর্ণিল প্রজাপতির চিত্র প্রচ্ছদটিকে করেছে আকর্ষণীয়। তাঁদের মতে, শিশুরা যখন নিজেদের অনুভূতি ও কল্পনাকে ভাষায় প্রকাশের সুযোগ পায়, তখন তাদের চিন্তাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সম্মিলিত উৎসাহ একটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরমার এই উদ্যোগ অন্য শিশু-কিশোরদেরও বই পড়া, কবিতা লেখা এবং সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক
কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশনা উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লেখক-শিল্পী, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনরা পরমার এই সৃজনশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। বক্তারা পরমার সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশ কামনা করে বলেন, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী তাজুল ইমাম, রাজনীতিবিদ ড. প্রদীপ কর, সিনিয়র সাংবাদিক শামীম আল আমিন এবং রাজনীতিবিদ ও ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান যাকারিয়া চৌধুরী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষের আন্তরিক শুভেচ্ছায় অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক অনন্য আনন্দঘন আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট ছড়াকার মনজুর কাদের। অনুষ্ঠানের সূচনায় আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রেকর্ড গড়া ‘তাপঝড়’
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পরমার কাব্যযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাংস্কৃতিক কর্মী স্বপন দত্ত, রওশন আরা নিপা, স্কুলশিক্ষিকা মনিরা আখঞ্জি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট স্বীকৃতি বড়ুয়া। এছাড়া কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল স্যানাল, পরিমল সাহা, বিদ্যুৎ সরকার, হরিপদ মণ্ডলসহ পরমার মেজজেঠুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার এই অর্জনকে স্বাগত জানান। সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করাকে তার শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অতিথিরা। তিনিই পরমার কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করেছেন। বইটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর একটি My Fear Is Here। সনজীবন সরকার, কবি হাসান আল আবদুল্লাহ, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক, কবি ও গীতিকার হুমায়ূন কবীর ঢালী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাচিকশিল্পী মিনহাজ আহমদ শাম্মু এবং সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা, সম্পাদক দীপক আচার্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিউটন দাসসহ প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার ও মা সেঁজুতি তালুকদার সমবেত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী এবং আয়োজনে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার গত ১২ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের এইচ অ্যান্ড আর ব্লকে বেনিফিট স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিজের কন্যাকে বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী করে গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা উপস্থিত সাহিত্যিক ও সমাজসেবীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। পরমার এই কাব্যগ্রন্থটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার চর্চাকে উৎসাহিত করার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনরা। অল্প বয়সেই নিজের ভাবনা ও অনুভূতিকে কবিতার ভাষায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সে দেখিয়েছে, সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বয়স কোনো চূড়ান্ত সীমা নয়। সাহা পূর্ণা, পরমার স্কুলশিক্ষিকা মিস শারমিন, পরমার মামা তন্ময় তালুকদার, মামী রুম্পা বসাক, ফুলমা প্রতিভা দাস, মা সেঁজুতি তালুকদার ও বাবা পিনাকী তালুকদার।

















