রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন জেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে প্রথমে রংপুর, পরে রাজশাহী ও শেষে চট্টগ্রাম জেলায় যান প্রধানমন্ত্রী। এসব জেলা সফরে বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। এ ছাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে- সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

রংপুর ও সৈয়দপুর সফর

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানী তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি সৈয়দপুর পৌঁছান। বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছোট শিশুরা প্রধান অতিথিকে নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানায়। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দু’টি পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি রংপুরে বৈষম্যহীন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য গত দুই সপ্তাহ আগে একনেক মিটিংয়ে ১৮শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সেরে রওনা হন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। সৈয়দপুর থেকে রংপুর আসার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর পথসভা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ১২ তারিখের নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার দিয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারে ফরাসি প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর: লুসাইল প্রাসাদে রাজকীয় অভ্যর্থনা

রাজশাহীতে আখ চাষিদের প্রণোদনা

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে একটি সামরিক বিমানে রওনা দিয়ে ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি সরাসরি হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যান। এই জনসভায় তিনি রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখ চাষির মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন। কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রদান করেন তিনি। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখ চাষিকে সরাসরি চেক প্রদান করা হয়। জনসভায় বিএনপি’র প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, কৃষক কার্ড চালু এবং নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। সেজন্যই আপনারা দেখেছেন যে কৃষকদের কৃষি ঋণ আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করেছি সঙ্গে সঙ্গে। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।

আরও পড়ুন: মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের চেতনা

রংপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তখন কোনো ধর্ম দেখিনি।

প্রত্যেকটি মানুষ বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। যে মানুষগুলো সেদিন নেমে এসেছিল, সেই মানুষগুলোর ভেতরেও সকল ধর্মের, সকল মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা যেমন সকলে মিলে দেশ স্বাধীন করেছিলাম এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারকে এই দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। সরকার এমন একটি অবস্থানে থাকতে চায় যে, যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবাই যেন এই সরকারের ছায়াতলে সমান নিরাপত্তা পান। ঠিক একইভাবে বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই আড়াই বছর আগের কথা- বাংলাদেশে একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যদি সেই গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখবো- সেই দৃশ্যের মধ্যে এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মেলন সেখানে হয়েছিল। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে একটি কথা বলতে হয়। আসুন আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ গঠন করেছে- সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন তাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা আমরা করেছি। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগ নেয়ার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যারা পানির সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে সরকার কথা বলবে।

গণ-অভ্যুত্থান ও বিভ্রান্তি দূরীকরণ

বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে চলার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ’২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, দয়া করে আপনারা কেউ ’২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। দেশটি আমাদের সকলের। অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি তার পরিবর্তন করতে সরকার কাজ করছে। এই পরিবর্তনে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ও শেষ সফর

রাজশাহী থেকে একই বিমানে চট্টগ্রাম পৌঁছে শহরের একটি পূজামণ্ডপে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রামেও জনসভায় বক্তব্য রাখেন এবং সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সরকারপ্রধান জানান, সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যাতে তাদের প্রত্যাশিত জীবন পায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থানই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে তার ওপরে বিবেচনা করে আমরা সকল এলাকার সমবণ্টন করে সকল এলাকার সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই। শুধু তাই নয় লোকাল গভর্মেন্টের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে দিয়ে আমরা এই জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোতে, বিভিন্ন গ্রামগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয় যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার, ব্রিজ-কালভার্ট দরকার, স্কুল কলেজ দরকার সেগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা পর্যায়ভাবে গড়ে। বাংলাদেশের মানুষ সেই ফলাফলটিকে বা সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যটিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। আমরা অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে না করি যাতে করে জনগণের যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আছে জনগণের যে সন্তানদের যে শিক্ষা আছে, স্বাস্থ্য সুবিধা আছে, জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি বাকরি আছে, এগুলো যাতে কোনোভাবে ব্যাঘাত না ঘটে এ দেশে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ এম
ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই এলাকায় পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ তুলে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে মারধরের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য এবং অন্যজন প্রতিবেশী। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জ ভূমি অফিসের কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটানো হয়। অভিযুক্তরা হলেন আনোয়ারের স্ত্রী আন্না খাতুন, তাদের ছেলে শুভ, বোন ওনি ও কনি এবং একজন প্রতিবেশী। স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে অভিযুক্তরা দলবেঁধে পাগলাকানাইয়ে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। বর্তমানে অভিযুক্ত ৫ জনই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ এম
প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের আগেই তলব রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত যেকোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সেই দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত যাবতীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই সফরের ক্ষেত্রে ঘটছে তার উল্টোটা। জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। ওয়াকিবহাল মহলের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের কাছে স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তি থাকায় সফরের ঠিক আগমুহূর্তে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সফরের প্রস্তুতি ও সমন্বয় প্রক্রিয়া থেকেও তাকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছিল, যা নিয়ে জাপানের অস্বস্তি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ওই অনুচ্ছেদে যে বক্তব্য ছিল, টোকিও তা তাদের জন্য সংবেদনশীল মনে করে। জাপানি কর্তৃপক্ষ দাউদ আলীকে চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করে এবং যৌথ বিবৃতিতে ওই অনুচ্ছেদটি প্রণয়নে তার ভূমিকা ছিল বলে তারা ধারণা করছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদী গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে বর্তমান ও সাবেক অনেক কূটনীতিক অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আগেভাগে খতিয়ে না দেখে সফরের প্রাক্কালে এমন পদক্ষেপ কেন নেয়া হলো, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ই অক্টোবর এক চিঠির মাধ্যমে তাকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশনা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে সমন্বয় ও প্রস্তুতির দায়িত্ব পালন করছেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ওই সফর থেকে ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হতে পারে। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

দাউদ আলীর ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তাকে একইভাবে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সে সময় তারেক রহমানকে লন্ডনে সহায়তার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে তাকে দেশে ফিরতে হলো।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা দাউদ আলী আগামী ৭ই ডিসেম্বর অবসরে (পিআরএল) যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, টোকিও, প্রিটোরিয়া ও লন্ডনের বিভিন্ন মিশন এবং চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। আগামী ৭ই ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ এম
ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ প্রবাসীদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভের আঁচ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের উত্তাপে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক দিনে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক প্রবাসী উদ্যোক্তা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি সরকার। এতে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিক্ষোভের অস্থিরতায় প্যারিসের প্রবাসী ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে হাসান নামের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান ও মোবাইল ফোনের সরঞ্জামাদি লুট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীর দাবি অনুযায়ী, তাঁর দোকানের প্রায় ৯০ হাজার ইউরো সমমূল্যের মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া মানি ট্রান্সফার বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রবাসীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, অতীতে যেকোনো আন্দোলন চলাকালে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের আউটলেটগুলো বেশি হামলার শিকার হওয়ার নজির রয়েছে। রিয়া ও মানিগ্রামের মতো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট আউটলেট পরিচালনাকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, নতুন করে রাস্তায় সহিংসতা শুরু হলে তাঁদের দোকানগুলো হামলার শিকার হতে পারে। ফ্রান্সের সহিংস বিক্ষোভ নিয়ে ‘নির্বোধের’ মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প: মাখোঁ। প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এসব আইনি ও আর্থিক সহায়তা সহজে পেতে পারেন, সে জন্য ফ্রান্সের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সংগঠন ও কমিউনিটি নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

প্যারিস নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের সহিংসতায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্যারিসেই ৪৫১টি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন মার্টের স্বত্বাধিকারী এলান খান চৌধুরী জানান, বর্তমান অস্থিরতায় ব্যবসার পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। খাবার সরবরাহকারী (ফুড ডেলিভারি) মনির হোসেন জানান, পরিস্থিতির কারণে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকছেন তাঁরা। নিয়মিত বৈধ কাগজপত্র না থাকা প্রবাসীদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে, কারণ রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি ও তল্লাশি চলছে।

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ফরাসি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছে।

ফ্রেঞ্চ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যাসোসিয়েশনস এবং কনফেডারেশন অব ফ্রেঞ্চ কমার্স ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ ও সংহতি প্রকাশের কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

পাশাপাশি প্যারিস ও ইল-দ্য-ফ্রঁস চেম্বার অব কমার্স ব্যবসায়ীদের বিমা সংক্রান্ত আবেদন ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। সরকারের বিশেষ প্যাকেজের আওতায় শর্তসাপেক্ষে আংশিক বেকারত্বকালীন ভাতা, কর পরিশোধের সময় বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণসহ বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোকানপাটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফরাসি সরকারের ঘোষিত সহায়তার আওতায় রয়েছে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মীদের আংশিক বেকারত্বকালীন ভাতার ব্যয় রাষ্ট্রের বহন করা, কর ও সামাজিক অবদানের অর্থ পরিশোধের সময় বাড়ানো, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণসুবিধা এবং যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বিশেষ তহবিল।

পরিস্থিতির অবনতির পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও ইয়েলো ভেস্ট কর্মীরা। এর মধ্যেই শুক্রবার প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রাপ ও লা ভেরিয়েরে এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। যদিও সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে, তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এর সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার প্যারিসের লুভর জাদুঘর, মিউজিয়াম দ’র্সে, পিকাসো জাদুঘর ও গ্রঁ পালে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ বাস্তিল, রিপাবলিক, নাসিওঁ ও লে আল এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। নাগরিকদের ঘর থেকে বের হওয়ার আগে গণপরিবহনের হালনাগাদ তথ্য ও পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে, লুট হওয়া পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা একটি গুরুতর অপরাধ। ফরাসি আইন অনুযায়ী, চোরাই পণ্য রাখা বা কেনাবেচার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ঠিক কতজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় এখন ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীরা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে সাবমেরিন কেবলে আঘাত হানবে ইরান

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com